Halishahar Cantonment Public School & College

EIIN : 135721

Rules And Regulations

একাডেমিক নীতিমালা

১। হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পাঠ্যসূচি সংক্রান্ত নীতিমালাঃ
ক) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত পাবলিক স্কুল ও কলেজ সমূহে অভিন্ন পাঠ্যসূচি অনুসরণ করা হয়।
খ) সেনাসদরের সকল পাবলিক স্কুল ও কলেজ সমূহের জন্য পাঠ্যসূচি সংক্রান্ত সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্যান্য পাবলিক স্কুল ও কলেজ সমূহের ন্যায় হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পাঠ্যসূচি নির্ধারিত হবে।

২। শিক্ষাদান পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদান বিষয়ক কার্যাবলী বিভিন্ন পর্বে সপন্ন হবে। প্রতি শিক্ষাবর্ষকে স্কুল শাখায় ২টি পর্বে বিভক্ত করা হবে; যথা- অর্ধ বার্ষিক ও চুড়ান্ত পর্ব। তিন পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে চুড়ান্ত মেধা তালিকা ও পরবর্তী শ্রেণির রোল নম্বর নির্ধারণ করা হবে। কলেজ শাখায় প্রতি শিক্ষাবর্ষকে ২টি পর্বে বিভক্ত করা হবে।
ক। শিক্ষা বর্ষপঞ্জি।
(১) প্রতি শিক্ষাবর্ষের পাঠপরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত বর্ষপঞ্জি ও পাঠ্যক্রম অনুসারে
সপন্ন হবে।
(২) প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বিষয়ভিত্তিক ১০০% শিক্ষকের শাখা পরিবর্তন করা হবে। এছাড়া শিক্ষাবর্ষের যে কোন সময় যে কোন শিক্ষকের শাখা পরিবর্তন করার ক্ষমতা অধ্যক্ষ সংরক্ষণ করেন।
খ। পরীক্ষা গ্রহণ। ২টি ভিন্ন পর্বে স্কুলের পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক পর্ব সমাপনী পরীক্ষার পূর্বে করে মাসিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত পাস নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দই কেবল মাত্র পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবে। কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠিত হবে। ১ম বর্ষে ১ম পর্ব (ষান্মাাসিক) ও ২য় পর্ব (বার্ষিক) পরীক্ষায় এবং ২য় বর্ষে ৩য় পর্ব (প্রাক নির্বাচনী) ও ৪র্থ পর্ব (নির্বাচনী) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কলেজ শাখার উল্লেখিত প্রতিটি পরীক্ষার পূর্বেই ২টি করে মাসিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে স্কুল ও কলেজ উভয় শাখার জন্য টিউটোরিয়াল/সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে।
গ। ছাত্র-ছাত্রীদের কৃতিত্বের মূল্যায়ন। স্কুল শাখায় (৫ম ও ৮ম শ্রেণি ব্যতীত) তিন পর্বের গড় নম্বরের ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রীদের চুড়ান্ত ফলাফল ও কৃতিত্বের মূল্যায়ন করা হবে। ৫ম ও ৮ম শ্রেণির ক্ষেত্রে ১ম ও ২য় পর্ব এবং চুড়ান্ত মডেল টেস্টের গড় নম্বরের ভিত্তিতে চুড়ান্ত ফলাফল ও কৃতিত্বের মূল্যায়ন করা হবে। কলেজ শাখায় একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে।

গ) সেনাসদর থেকে প্রেরিত পাঠ্যসূচি পুস্তক আকারে বছরের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের সরবরাহ করা হবে।
ঘ) পাঠ্যসূচিতে কোন প্রকার অংসগতি দৃষ্টিগোচর হলে বা কেন প্রকার সংযোজন/বিয়োজনের প্রয়োজন বোধ করলেই সংশ্লিষ্ট বিষয় শ্রেণি শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে তা কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানাবেন। কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাই পূর্বক প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সমন্বয় সভায় আলোচনার জন্য প্রেরণ করবেন।

৩। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ বন্টনের নীতিমালা।
ক। উত্তীর্ণের নীতিমালা । ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নীতিমালা নিম্নরূপ:
(১) কোন ছাত্র-ছাত্রী উপরোক্ত পাস নম্বর না পেলে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের জন্য বিবেচিত হবে না ।
(২) কোন ছাত্র-ছাত্রী দুর্ঘটনাজনিত কারণে অথবা মারাত্মক অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন থাকলে ডাক্তারি সনদপত্রসহ
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে পুন:পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না।
(৩) কেহ যদি ০২ (দুই) পর্বের গড়ে ০১ (এক) বিষয়ে অকৃতকার্য হয় এবং চুড়ান্ত পর্ব পরীক্ষায় সকল বিষয়ে কৃতকার্য হয় তবে তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে বিশেষ বিবেচনায় উত্তীর্ণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মেধা তালিকায় কোন স্থান দেয়া হবে না।
(৪) কেহ ০২ (দুই) পর্বের গড়ে ০২ (দুই) বিষয়ে অকৃতকার্য হয় এবং চুড়ান্ত পর্ব পরীক্ষায় সকল বিষয়ে পাস করে তবে তাকে একই ক্লাসে রাখা যেতে পারে।
(৫) কেহ যদি চুড়ান্ত পর্ব পরীক্ষায় ০১ (এক) বিষয়ে অকৃতকার্য হয় এবং ০২ (দুই) পর্বের গড়ে ০২ (দুই) বা
ততোধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয় তবে তাকে বাধ্যতামূলক টিসি দেয়া হবে।
(৬) এসএসসি/এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় কোন ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর পেতে ব্যর্থ হলে চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিমিত্তে ফরম-ফিলাপের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
(৭) বিবেচনায় উত্তীর্ণ কোন ছাত্র-ছাত্রী মেধা তালিকায় স্থান পাবে না।
(৮) উপরোক্ত নীতিমালার বাইরে যদি কাউকে প্রমোশন দিতে হয় সে ক্ষেত্রে অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে সভাপতি বিশেষ বিবেচনায় প্রমোশন দিতে পারবেন।
খ। বিজ্ঞান বিভাগ নির্বাচন নীতিমালা। ৯ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ প্রাপ্তির বিষয় নিম্নরূপভাবে নির্ধারিত হবে :
(১) শিক্ষার্থীকে জেএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪.৮৬ থাকতে হবে।
(২) গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পৃথক পৃথকভাবে জিপি-৫ এবং ইংরেজিতে ন্যূনতম জিপি ৪.০০ থাকতে হবে।
(৩) উল্লেখিত নিয়মের ব্যতিক্রম হলে অধ্যক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

৪। সহশিক্ষা কার্যক্রম। ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক উন্নতি সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে অতিরিক্ত দুই পিরিয়ড সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ৪র্থ – দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ন্যূনতম পক্ষে একটি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে। তাদের পছন্দ অনুযায়ী কোন না কোন ক্লাবের সদস্য হবে। তবে নার্সারী-৩য় শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা শুধুমাত্র চারুকারু, সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি ক্লাবে সদস্য হতে পারবে। প্রতি বিষয়ের জন্য একজন ইনচার্জ থাকবেন এবং অন্যান্য সকল শিক্ষক কোন না কোন ক্লাবের সদস্য থাকবেন। স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিম্নোল্লেখিত সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবেঃ
ক। বাংলা বিতর্ক।
খ। ইংরেজি বিতর্ক।
গ। উপস্থিত বক্তৃতা ও আবৃত্তি – বাংলা।
ঘ। উপস্থিত বক্তৃতা ও আবৃত্তি – ইংরেজি।
ঙ। রচনা (বাংলা ও ইংরেজি)।
চ। গণিত অলিপয়াড।
ছ। সাধারণ জ্ঞান / ব্রেইন ট্রাস্ট।
জ। রোভারস স্কাউট।
ঝ। বয়েজ স্কাউট।
ঞ। গালস্ গাইড।
ট। বিএনসিসি।
ঠ। ডিসপ্লে (শৈল্পিক অনুশীলন)।
ড। চারুকারু ও কারুকলা।
ঢ। সংগীত।
ণ। নৃত্য।
ত। নাটক/অভিনয় ক্লাব।
থ। বিজ্ঞান ক্লাব।
দ। কম্পিউটার ক্লাব।
ধ। দাবা ক্লাব।
ন। হ্যান্ডবল ক্লাব।
প। ব্যাডমিন্টন।
ফ। ভলিবল ক্লাব।
ব। বাস্কেটবল ক্লাব।
ভ। ফুটবল ক্লাব।
ম। ক্রিকেট ক্লাব।
হ। ড্রাম বাদক সোসাইটি।
বছরের শুরুতেই অধ্যক্ষ সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য উপাধ্যক্ষকে প্রধান সমন্বয় ও সহকারি প্রধান শিক্ষককে সহকারি সমন্বয়ক করে এবং ইনচার্জ ও সদস্য নিয়োগ করতঃ অফিস আদেশ জারী করবেন। ইনচার্জগণ শ্রেণি শিক্ষকদের সহযোগিতায় জানুয়ারি মাসের মধ্যেই নিজ নিজ ক্লাবে/সোসাইটির সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করতঃ চুড়ান্ত তালিকা প্রধান সমন্বয়ের নিকট জমা দিবেন। ফেব্র“য়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ হতেই সকল সহশিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে শুরু করতে হবে।

৫। পরীক্ষা:
পরীক্ষা হচ্ছে ছাত্র ও শিক্ষকের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন। লক্ষণীয় যে কিছু কিছু অভিভাবক ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকৃত শিখন দক্ষতা বিবেচনা না করে শ্রেণিতে তাদের ক্রম অবস্থানের (রোল নং) ব্যাপারে বেশি আগ্রহী থাকেন। এতদসংক্রান্তে ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হল হল ছাত্র-ছাত্রী সামগ্রিকভাবে বা এককভাবে ইস্পিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য কতটুকু জ্ঞান অর্জন করল তা নির্ধারণ করা। এই লক্ষ্যে অর্জনের জন্য পরীক্ষা সমূহ নিম্নরূপভাবে গ্রহণ করা হবেঃ
(ক) ছাত্র-ছাত্রীদের অবহিতকরণ:
শুধুমাত্র পাঠ্যসূচি সমাপ্তি করণই পরীক্ষার উদ্দেশ্যে হওয়া উচিৎ নয়। প্রয়োজন বোধে নমুনা প্রশ্ন সরবরাহ করা যেতে পারে। প্রশ্নের সহায়ক শব্দাবলী ছাত্রদের কাছে সুস্পষ্ট হতে হবে। (উদাহারণ স্বরূপ- ব্যাখ্যা, বর্ণনা, সংজ্ঞা, উদাহরণ ইত্যাদি)।
(খ) পরিমার্জনঃ সকল প্রশ্ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্তৃক পরিমার্জিত হওয়া বাঞ্চনীয়। পরিমার্জক সবশেষে প্রশ্নের ব্যাপারে তার সম্মতি দেবেন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
(গ) উত্তরপত্রের প্রতিনিয়ত পরীক্ষণঃ
সকল উত্তরপত্র বিষয় শিক্ষক কর্তৃক সার্বিকভাবে চিহ্নিত হতে হবে। উত্তরপত্র সমূহ একইভাবে পরীক্ষিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক প্রয়োজনে সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় নম্বর প্রাপ্ত কয়েকটি উত্তরপত্র করবেন। বড় ধরনের কোন অসামঞ্জস্যতা দেখাগেলে সহকারী প্রধান শিক্ষক/উপধ্যক্ষ অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সময়সূচি ও পোশাকঃ
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের পোশাক
৬। ক। শিক্ষক (পুরুষ)।
(১) গ্রীষ্মকালে অফ হোয়াইট রং-এর হাফ শার্ট এবং শীতকালে ফুল শার্ট।
(২) কালো প্যান্ট।
(৩) কালো জুতা ও কালো মোজা।
(৪) কালো বেল্ট।
(৫) শীতকালে নেভি ব্লু রং-এর টাই এবং প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত নেভি ব্লু রং-এর কোর্ট/ব্লেজার।
খ। শিক্ষক (মহিলা)।
(১) হালকা রং-এর শাড়ী।
(২) শাড়ীর পাড়ের রং-এর ব্লাউজ।
(৩) কালো মোজাসহ পাম্প সু।
(৪) শীতকালে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত নেভি ব্লু রং-এর কোর্ট/ব্লেজার।
গ। কর্মকর্তা।
(১) গ্রীষ্মকালে পেস্ট কালার হাফ শার্ট এবং শীতকালে ফুল শার্ট।
(২) কালো প্যান্ট।
(৩) কালো জুতা ও কালো মোজা।
(৪) কালো বেল্ট।
(৫) শীতকালে মেরুন রং-এর টাই এবং প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত মেরুন রং-এর কোর্ট/ব্লেজার।
ঘ। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (পুরুষ)।
(১) গ্রীষ্মকালে হালকা এ্যাস রং-এর শার্ট এবং শীতকালে ফুল শার্ট।
(২) কালো প্যান্ট।
(৩) কালো জুতা ও কালো মোজা।
(৪) কালো বেল্ট।
(৫) শীতকালে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত ব্লেজার।
ঙ। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি (মহিলা)।
(১) হালকাজা রং-এর শাড়ী (প্রিন্টের পাড়সহ)
(২) পাড় রং-এর ব্লাউজ।
(৩) কালো পাম্প সু ও কালো মোজা।
(৪) শীতকালে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত মেরুন রং-এর কার্ডিগান।
চ। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি (পুরুষ)।
(১) গ্রীষ্মকালে ডিপ খয়েরি হাফ শার্ট এবং শীতকালে ফুল শার্ট।
(২) খয়েরি প্যান্ট ও কালো বেল্ট।
(৩) খাকি কাপড়ের জুতা ও কলো মোজা।
(৪) শীতকালে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত পীত রং-এর পুলওভার (নিরাপত্তা প্রহরী ব্যতীত)।
(৫) শীতকালে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত হাঁটু পর্যন্ত লম্বা জ্যাকেট (নিরাপত্তা প্রহরীদের জন্য)।
ছ। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি (মহিলা)।
(১) হালকা জলপাই রং-এর শাড়ী।
(২) একই রং-এর ব্লাউজ।
(৩) কালো রং-এর স্যান্ডেল/জুতা।
(৪) শীতকালে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত পীত রং-এর কার্ডিগান।

৭। ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক
ছাত্র-ছাত্রীরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠান নির্দেশিত ও নির্ধারিত পোশাক (স্কুল ইউনির্ফম) পরিধান করে প্রতিষ্ঠানে আসবে। গ্রীষ্ম ও শীতকালীন পোশাক পরিধানের সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাসময়ে জানানো হবে।
ক। ছাত্রীদের (নার্সারি – ৫ম শ্রেণি)।
(১) গ্রীষ্মকালীন পোশাক।
(ক) নার্সারী-৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত হালকা নীল রং এর ফ্রক (বেবী কলারসহ), সোল্ডার ফ্ল্যাসহ এবং বেল্ট। সাদা মোজা, সাদা অক্সফোর্ড জুতা, পাম্প কার্ড ও আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।
(২) শীতকালীন পোশাক (অতিরিক্ত)।
(ক) নার্সারী-৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত হালকা নীল রং এর ফ্রক (বেবী কলারসহ), সোল্ডার ফ্ল্যাসহ, বেল্ট, সাদা সেলোয়ার এবং নেভী ব্লু সুয়েটার, সাদা মোজা, সাদা অক্সফোর্ড জুতা, পাম্প কার্ড ও আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।
খ। ছাত্রদের (নার্সারি – ৫ম শ্রেণি)।
(১) গ্রীষ্মকালীন পোশাক।
(ক) নেভী ব্লু রং এর বেল্ট সহ প্যান্ট (এশিয়ান টেক্সটাইল) প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত সাদা হাফ শার্ট (সোল্ডার ফ্ল্যাপ সহ) দুই পাশে ফ্ল্যাপসহ পকেট।
(খ) নার্সারী – ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সাদা পিটি সু ও সাদা মোজা।
(গ) প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত নেভী ব্লু রং এর টাই।
(ঘ) পাম্প কার্ড, আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।
(২) শীতকালীন পোশাক (অতিরিক্ত)।
(ক) নেভী ব্লু রং এর বেল্ট সহ প্যান্ট (এশিয়ান টেক্সটাইল) প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত সাদা ফুল শার্ট (সোল্ডার ফ্ল্যাপ সহ) দুই পাশে ফ্ল্যাপসহ পকেট।
(খ) নার্সারী – ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সাদা পিটি সু ও সাদা মোজা।
(গ) নেভী ব্লু সুয়েটার, পাম্প কার্ড, আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।

গ। ছাত্রীদের (৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি)।
(১) গ্রীষ্মকালীন পোশাক।
(ক) ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত হালকা নীল রং এর কামিজ (বেবী কলারসহ), সোল্ডার ফ্ল্যাপ এবং বেল্ট।
(খ) সাদা সেলোয়ার, সাদা ওড়না, সাদা এপ্রোন (থ্রি কোয়াটার হাতাসহ)
(গ) সাদা মোজা, সাদা অক্সফোর্ড জুতা, পাম্প কার্ড ও আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।
(২) শীতকালীন পোশাক (অতিরিক্ত)।
(ক) ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত হালকা নীল রং এর কামিজ (বেবী কলারসহ), সোল্ডার ফ্ল্যাপ এবং বেল্ট।
(খ) সাদা সেলোয়ার, সাদা ওড়না, সাদা এপ্রোন (থ্রি কোয়াটার হাতাসহ), নেভী ব্লু সুয়েটার।
(গ) সাদা মোজা, সাদা অক্সফোর্ড জুতা, পাম্প কার্ড ও আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।
ঘ। ছাত্রদের (৬ষ্ঠ – ১০ম শ্রেণি)।
(১) গ্রীষ্মকালীন পোশাক।
(ক) নেভী ব্লু রং এর বেল্ট সহ প্যান্ট (এশিয়ান টেক্সটাইল) প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত সাদা হাফ শার্ট (সোল্ডার ফ্ল্যাপ সহ) দুই পাশে ফ্ল্যাপসহ পকেট।
(খ) পর্যন্ত সাদা পিটি সু ও সাদা মোজা।
(গ) প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত নেভী ব্লু রং এর টাই।
(ঘ) পাম্প কার্ড, আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।
(২) শীতকালীন পোশাক (অতিরিক্ত)।
(ক) নেভী ব্লু রং এর বেল্ট সহ প্যান্ট (এশিয়ান টেক্সটাইল) প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামযুক্ত সাদা হাতা ফুল শার্ট (সোল্ডার ফ্ল্যাপ সহ) দুই পাশে ফ্ল্যাপসহ পকেট।
(খ) সাদা পিটি সু ও সাদা মোজা।
(গ) নেভী ব্লু সুয়েটার (ঠ গলা), পাম্প কার্ড, আইডি কার্ড এবং হাউজ এ্যাপোলেড।

ঙ। নবাগত শিক্ষক/ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধনাঃ
(১) নবাগত অধ্যক্ষকে বিদায়ী অধ্যক্ষ/ভারপ্রাপ্ত এ্যাসেম্বলীতে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন এবং শিক্ষক সভায় চা চক্র সহযোগে শিক্ষকবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন। এছাড়াও বিদায়ী / ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ (কলেজ শাখা) নতুন অধ্যক্ষকে বিফ্রিং এর মাধ্যম প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
(২) নতুন শিক্ষক/কর্মকর্তা যোগদান করলে শিক্ষক সমন্বয় সভায় অধ্যক্ষ তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিবেন।
(৩) একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দ্বাদশ শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষকগণ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন, উপাধ্যক্ষ সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করবেন, অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান এর ব্যয়ভার বহন করবে।
নার্সারীতে নতুন ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল, বেলুন ও চকলেটের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বরণ করতে হবে। এ ক্লাসে সম্ভব হলে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
সমাবেশ
৮। প্রতিষ্ঠানের সমাবেশ বিষয়ক নীতিমালা নিম্নরূপ:
ক। প্রতিষ্ঠানে (পরীক্ষার দিন ব্যতীত) প্রতি রবি ও বুধবার কেন্দ্রীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি মঙ্গলবার হাউস সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে অবশ্যই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে হবে (ডাক্তারী সনদপত্র বা অভিভাবকদের যৌক্তিক আবেদনপত্র ব্যতীত)। কেন্দ্রীয় সমাবেশে অধ্যক্ষ সালাম গ্রহণ করবেন।
খ। শিক্ষকগণ সমাবেশের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিন্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।
গ। পূর্বনির্ধারিত ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবে। ক্রীড়া শিক্ষক সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষকদের সাথে আলোচনা পূর্বক প্রতি মাসে জাতীয় সংগীত পরিবেশনকারী দল নির্বাচন করবেন।
ঘ। অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/সহকারি প্রধান শিক্ষক সমাবেশের সময় প্রয়োজনবোধে প্রতিষ্ঠানিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন।
ঙ। নার্সারী-কেজি ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা সমাবেশ শেষে নিজ নিজ র্ফম শিক্ষকগণকে অনুসরণ করে স্ব স্ব ক্লাশে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে যাবে।
চ। পরীক্ষা চলাকালীন ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দিনে (বর্ষাকালে বৃষ্টিতে মাঠ কর্দমাক্ত থাকলে এবং শীতকালে ঘন কুয়াশায় মাঠ আচ্ছন্ন থাকলে) সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে না। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সিদ্ধান্ত দিবেন।

৯। শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছাত্রÑছাত্রীদের কলেজে ভর্তি না করার নীতিমালা।

যে সকল শিক্ষার্থীকে অত্র প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখায় অধ্যয়নকালে গুরুতর কোন অপরাধের জন্য বাধ্যতামূলক টিসি দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে কোনক্রমেই এ প্রতিষ্ঠানে কলেজ শাখায় ভর্তি করা হবে না। যে সকল শিক্ষার্থী অত্র প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখায় অধ্যয়নকালে গুরুতর অপরাধ করা সত্ত্বেও বিধিবদ্ধ যে কোন কারণে স্কুলে পড়ার সুযোগ অব্যাহত ছিল তারা যতোই ভাল ফলাফল করুক না কেন, তাদেরকে পরবর্তীতে কোনক্রমেই অত্র কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক অফিসে যথাযথ নথি/তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং ভর্তির সময় তা উপাধ্যক্ষকে অবহিত করতে হবে। উল্লেখ্য, কলেজ এবং স্কুল শাখা কর্তৃক এ ধরণের নথি সংরক্ষণের জন্যে প্রশাসনিক অফিস তথ্য সরবরাহ করবে।

১০। শিক্ষার মানোন্নয়নের তত্ত্বাবধান
নিম্নরূপ কার্য-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রমের তত্ত্বাবধান সম্পন্ন হবে :
ক। শিক্ষক সভা (শাখাভিত্তিক)। শাখা প্রধানগণ সংশ্লিষ্ট শাখার সকল শিক্ষককে নিয়ে পাক্ষিক ভিত্তিতে সভার আয়োজন করবেন। উক্ত সভায় সংশ্লিষ্ট শাখার শিক্ষাদানের মান, ছাত্র-ছাত্রীদের ও শিক্ষকদের শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি বিষয়ে আলোচিত হবে। শাখা প্রধানগণ সভার পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি ও সভার পর আলোচিত বিষয়াবলী অধ্যক্ষকে অবহিত করবেন।
খ। অধ্যক্ষের মাসিক শিক্ষক সভা। অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষককে নিয়ে প্রতিমাসে একটি করে মাসিক সভায় মিলিত হবেন। উক্ত সভায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়াদি আলোচিত হবে।
গ। ফলাফল-মূল্যায়ন। প্রতি পর্ব পরীক্ষা/গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষে অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে ফলাফল মূল্যায়নী সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় যে সকল বিষয়/শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা খারাপ ফলাফল করবে সে সকল বিষয়/শ্রেণির শিক্ষকবৃন্দ জবাবদিহি করবেন এবং ফলাফল উন্নয়নের জন্য কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

১১। শিক্ষকদের করণীয় বর্জনীয় বিষয়াবলী

কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি তার শিক্ষকমন্ডলি। প্রতিটি শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে এক একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে শিক্ষকদের শৃঙ্খলার মান অত্যন্ত উঁচু হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

ক। শিক্ষকদের জন্য করণীয় বিষয়াবলী।

(১) যথাসময়ে অফিসে আসতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে অফিস সময়ের পূর্বে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করা যাবে না।
(২) শিক্ষক সমন্বয় সভা ও এ্যাসেম্বলীতে প্রত্যেক শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
(৩) শিক্ষক যথাযথ ইউনিফরম পরিধান করে প্রতিষ্ঠানে আসবেন।
(৪) প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের কোন ছাত্র-ছাত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে অধ্যক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্লাস সময় ব্যতীত প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রস্তুতি ক্লাসের আয়োজন করতে পারবেন।

(৫) প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাসভবনে কোনরূপ প্রাইভেট পড়ানো যাবেনা।
(৬) প্রতিষ্ঠানের বাহিরের কোন কোচিং সেন্টারে অথবা অন্য কোন পার্ট টাইম চাকুরী করা যাবে না।
(৭) জুনিয়র শিক্ষকদের পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য সিনিয়র শিক্ষকগণ সবসময় সহযোগিতা করবেন।
(৮) প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে প্রতি কর্মদিবস ও কর্মঘন্টা ছাড়াও যে কোন সময় যে কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য থাকবেন।
(৯) শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করবেন।

(১০) প্রতিষ্ঠানের কোন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যেমন-ভর্তি, নিয়োগ প্রশ্নপত্র তৈরী, তদন্ত কমিটি ইত্যাদিতে নিয়োজিত হলে সে বিষয়ে যথাযথ নিষ্ঠা, সততা ও গোপনীয়তা রক্ষা করবেন।

(১১) প্রতিষ্ঠানের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভুল ধরিয়ে তা সংশোধনের জন্য পরামর্শ দিবেন।

(১২) কোন ছাত্র-ছাত্রীর আচার-আচরণ প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা পরিপন্থি মনে হলে তা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
(১৩) কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত অন্য যে কোন কার্যাবলি নিষ্ঠার সাথে সম্পাদন করবেন।

খ। শিক্ষকদের জন্য বর্জনীয় বিষয়বলী।

(১) শিক্ষকদের স্যান্ডেল সু পরে কর্মদিবসে স্কুল/কলেজে আসা।
(২) শীতকালে মাফলার ব্যবহার করা।
(৩) যারা শেভ করেন তাদের বিনা শেভে স্কুল/কলেজে আসা।
(৪) প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় কোন শিক্ষার্থীর গাড়ী/যানবাহন ব্যবহার করা।
(৫) ক্লাস চলাকালে মোবাইল ফোন চালু রাখা/গান শোনা।
(৬) প্রতিষ্ঠানে ধুমপান করা, পান খাওয়া, নেশা করা।
(৭) কোন ছাত্র-ছাত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা।
(৮) ছাত্র-ছাত্রী/সহকর্মী/অধস্তন কর্মচারীকে অপমান বা লাঞ্চিত করা।
(৯) কোন সিনিয়রের সাথে ঔধত্যপূর্ণ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা।
(১০) প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বা মালামালের ক্ষতি সাধন করা।

১২। ছাত্র-ছাত্রীদের করণীয় বর্জনীয় বিষয়াবলী

হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্রিয় তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে পরিচালিত। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য সুযোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিয়ম-শৃংখলার সার্বক্ষণিক অনুশীলন বিশেষভাবে প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সকল প্রকার শৃংখলা পরিপন্থি আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ নিলিপিবদ্ধ করা হলোঃ

ক। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য করণীয় বিষয়গুলো নিুরূপ।

(১) যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া।
(২) এ্যাসেম্বলির দিন যথাসময়ে এ্যাসেম্বলিতে যোগদান করা।
(৩) ছুটির পর অকারণে ক্যাম্পাসে অবস্থান না করা।
(৪) সব সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ক্লাসে আসা (দাঁত মাজা, নখ কাটা, চুল ছোট রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত মুখ ধোয়া ইত্যাদি)।
(৫) অফ-পিরিয়ডে/টিফিন পিরিয়ডে সুশৃঙ্খল থাকা ও অযথা হৈ চৈ না করা।
(৬) সহপাঠ কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করা ও উপস্থিত থাকা।
(৭) কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সকল প্রকার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা/উপস্থিত থাকা।
(৮) লেখাপড়ায় মনোযোগি হওয়া।
(৯) বাড়ীর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে দেখানো।
(১০) ব্যবহারিক ও লাইব্রেরি ক্লাসে উপস্থিত থাকা।
(১১) যথাযথ ইউনিফর্ম পরিধান করে ক্লাসে আসা।
(১২) নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর ০৭ দিনের মধ্যে ইউনিফরম তৈরী করা।
(১৩) সব সময় পরিচয়পত্র বহন করা।
(১৪) ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
(১৫) কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত অন্য যে কোন আদেশ পালন করা।

খ। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অবশ্য বর্জনীয় বিষয়গুলো নিুরূপ।

(১) ক্লাসে বিলম্বে আসা।
(২) ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা।
(৩) যথাযথ ইউনিফরম পরিধান করে ক্লাসে না আসা।
(৪) ছেলেদের চুল বড় রাখা/কিংবা মাথা ন্যাড়া করা।
(৫) মেয়েদের চুল খোলা রাখা এবং মাথায় দৃষ্টিকটু বা আকর্ষণীয়/রঙচঙে ক্লিপ/ব্যান্ড ব্যবহার করা।
(৬) চুল রং করা, চোখের রং পরিবর্তনের জন্য কসমেটিক লেন্স ব্যবহার করা।
(৭) মেয়েদের ভারী অলংকার, ফ্রেন্ডশীপ ব্যান্ড, নুপুর, ঝুলন্ত দুল, আংটি, নেইল পালিশ, নখ বড় রাখা, হাতের উপর মেহেদী দেয়া ইত্যাদি।
(৮) খাদ্য বস্তু নিয়ে যত্র তত্র হেঁটে হেঁটে খাওয়া।
(৯) পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করা।
(১০) বিনা কারণে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা বা ছুটির পূর্বে বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করা।
(১১) বিনা অনুমতিতে প্রতিষ্ঠানে বা সহপাঠীর কোন কিছু নেয়া।
(১২) লাইব্রেরির বইয়ের পাতা বা পত্র-পত্রিকার বিশেষ অংশ কেটে নেয়া/বইয়ের পাতা বা পত্র-পত্রিকায় অশালীন কথা লেখা।
(১৩) প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট করা।
(১৪) শ্রেণী কক্ষে বা শ্রেণী কক্ষের বাইরে দৃষ্টিকটু আচরণ করা।
(১৫) মোবাইল ফোন সেট, ক্যাসেট, সিডি, লেজার লাইটার, সানগ্লাস, হকিষ্টিক ইত্যাদি বহন করা।
(১৬) ক্যাম্পাসে গাড়ী ও মোটর সাইকেল চালানো।
(১৭) ধুমপান বা এ জাতীয় কোন কিছু সেবন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণ ও বহন করা।
(১৮) ডেক্স, ব্লাকবোর্ড, হোয়াইটবোর্ড, দেয়াল, বাথরুম দরজা ইত্যাদিতে মন্তব্য লেখা।
(১৯) বড় আকৃতির এবং মিউজিক সংযোজিত হাত ঘড়ি ব্যবহার করা।
(২০) মোজা বিহীন জুতা, গেঞ্জিবিহীন শার্ট পরা বা বিনা কারণে মাথায় ক্যাপ পরা।
(২১) কোমরে বড় আকৃতির বেল্ট ব্যবহার করা।
(২২) অফ/টিফিন পিরিয়ডে ক্যাম্পাসের বাইরে দোকানে গিয়ে টিফিন খাওয়া।
(২৩) শ্রেণীকক্ষ, দেয়াল, বাথরুম প্রভৃতি অকারণে নোংরা করা।
(২৪) সহপাঠীদের সাথে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা।
(২৫) সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সাথে বেয়াদবী করা এবং জুনিয়রদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা।
(২৬) কর্তৃপক্ষ জারিকৃত যে কোন আদেশ অমান্য করা।

১৩। ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা শাস্তি সংক্রান্ত নীতিমালা

যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ঐ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলার মানের উপর বহুলাংশে নির্ভর করে। ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি নির্দেশিত শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রকৃতি এবং শাস্তির দিক নির্দেশনা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থে যে কোন একটি অপরাধের জন্য ছাত্র-ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিস্কার করা যেতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদের শাস্তির ব্যাপারে অধ্যক্ষ একক সিদ্ধান্ত/উপাধ্যক্ষ/শিক্ষকমন্ডলীর সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে কোন ছাত্র-ছাত্রীকে বহিস্কার করতে হলে অবশ্যই সভাপতির অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। স্কুলে অধ্যয়রনত কোন ছাত্র-ছাত্রী গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য দায়ী হলে যাদেরকে বোর্ড/সরকারি নিয়মে টিসি দেয়া/বহিষ্কার করা সম্ভব নয় তাদেরকে কলেজ শাখায় ভর্তি করা হবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ ও নির্ধারিত শাস্তি নিুর ছকে প্রদত্ত হলো:

ক্রমিক অপরাধের বিবরণ প্রস্তাবিত শাস্তির ধরণ
১। স্কুল ও কলেজে বিলম্বে আসা ও ছুটির পর অকারণে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা। সতর্কীকরণ ও ডায়েরীতে নোট দেয়া, প্রয়োজনবোধে শাস্তিবৃদ্ধিকরণ।
২। স্কুল পোশাকে (জুতা, মোজা, বেল্ট, নেমপ্লেট ও ব্যাজ ইত্যাদি) অনিয়ম। লিখিতভাবে সতর্কীকরণ ও অভিভাবককে অবহিতকরণ। লঘু শাস্তি স্বরূপ শ্রেণীর পিছনে কিছু সময় দাঁড় করে রাখা। পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রয়োজনে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ।

৩। ছেলেদের চুল বড় রাখা কিংবা নেড়া করা (অসুস্থতা ছাড়া)। সতর্কীকরণ ও অভিভাবককে অবহিতকরণ। প্রয়োজনবোধে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ।
৪। ছাত্রীদের চুল বেণী না করা (যাদের চুল লম্বা) রং বেরংয়ের ক্লিপ, ব্যান্ড পড়া। মৌখিকভাবে সতর্কীকরণ ও ক্লাসের পিছনে দাঁড় করিয়ে রাখা।
৫। চুল রং করা, চোখের রং পরিবর্তনের জন্য লেন্স ব্যবহার করা। লিখিতভাবে সতর্কীকরণ ও অভিভাবককে অবহিতকরণ। প্রয়োজনে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ।
৬। নখ বড় রাখা, নেইল পালিশ, লিপষ্টিক, কপালে টিপ ইত্যাদি ব্যবহার করা। ভর্ৎসনা করা, সর্তক করা, অভিভাবককে অবহিতকরা এবং শ্রেণীতে দাঁড় করিয়ে রাখা।
৭। অলংকার, ফ্রেন্ডশীপ ব্যান্ড, চেইন/বালা, ফিংগার রিং, নুপুর, চুড়ি, ঝুলন্ত দুল ইত্যাদি ব্যবহার করা। সতর্কীকরণ ও ডায়েরীতে নোট দেয়া, প্রয়োজনে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ।
৮। ডেক্স, খাতা, ব্লাকবোর্ড, হোয়াইট বোর্ড, দরজা, দেয়াল,বাথরুম ইত্যাদিতে লেখা। অভিভাবককে অবহিকরণ/প্রয়োজনে শাস্তি বৃদ্ধি/বহিস্কার -এর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৯। খাদ্যবস্তু নিয়ে যত্রতত্র হেঁটে হেঁটে খাওয়া। মৌখিকভাবে সতর্কীকরণ, ডায়েরীতে নোট দেয়া, প্রয়োজনে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ।
১০। কাগজের টুকরা, ফল বা খাদ্য সামগ্রীর খোসা যত্রতত্র ফেলা। মৌখিকভাবে সতর্কীকরণ ও ডায়েরীতে নোট দেয়া।

১১। ছেলে মেয়েদের মধ্যে অশোভন পত্র লিখন বা বহন করা। সতর্কীকরণ, অভিভাবককে অবহিতকরণ, প্রয়োজনবোধে বহিস্কার।
১২। প্রতিষ্ঠানে থাকাকালে এবং বাসে যাতায়াতের সময় কটুক্তি, অশ্লীল ইঙ্গিত, উচ্চস্বরে চিৎকার, গান গাওয়া, নাচানাচি এবং শার্টের ইন খোলা, বোতাম খোলা। সতর্কীকরণ ও ডায়েরীতে নোট দেয়া বা প্রয়োজন বোধে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ/বহিস্কার।
১৩। ক্লাস পালানো অভিভাবককে অবহিতকরণ, শাস্তিবৃদ্ধিকরণ, পুনরাবৃত্তি ঘটলে বহিস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ।
১৪। অফ-পিরিয়ড ও টিফিন পিরিয়ডে লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, কমনরুম এবং খেলার মাঠছাড়া অন্যত্র গমন করা। সতর্কীকরণ, অভিভাবককে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনে শাস্তি বৃদ্ধিকরণ।

১৫। অফিসে/বাথরুমে যাবার নাম করে অযথা ঘোরা ফেরা করা বা ক্লাস ফাঁকি দেওয়া। মৌখিকভাবে সতর্কীকরণ, শ্রেণীর পিছনের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা/অভিভাবককে অবহিতকরণ।



Total Views : 2774